ফেডের সুদহার কমানোর প্রত্যাশায় বিশ্ববাজারে বেড়েছে স্বর্ণের দাম

কর্মসংস্থান কমে যাওয়ায় ডিসেম্বরে সুদহার কমানো উচিত বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) বোর্ডের কর্মকর্তা ক্রিস্টোফার ওয়ালা।

কর্মসংস্থান কমে যাওয়ায় ডিসেম্বরে সুদহার কমানো উচিত বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) বোর্ডের কর্মকর্তা ক্রিস্টোফার ওয়ালা। তার এ মন্তব্যের পর ফেডের সুদহার কমানোর সম্ভাবনা ৭০ শতাংশ বলে বিবেচনা করছেন ব্যবসায়ীরা। এমন প্রেক্ষাপটে গতকাল বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে। তবে এ দাম বাড়ার প্রবণতাকে কিছুটা সীমিত করে তুলেছে ডলারের ঊর্ধ্বমুখী বিনিময় হার ও বাণিজ্য উত্তেজনা কমে আসার তথ্য। খবর রয়টার্স।

স্পট মার্কেটে গতকাল স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ২০ ডলার ৪৫ সেন্টে। এটি আগের দিনের তুলনায় দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। এ সময় ডিসেম্বরে সরবরাহের চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে মূল্যবান ধাতুটির দাম দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৩১ ডলার ৫০ সেন্টে পৌঁছেছে।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বিনিয়োগ ব্যাংক ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভানি স্টাউনোভো বলেছেন, ‘মার্কিন অর্থনীতির নতুন কোনো তথ্য না থাকায় পরিস্থিতি কিছুটা জটিল। দেশটিতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে গেলে ফেড সুদহার আরো কমাবে। বছরের শেষ নাগাদ স্বর্ণের দাম পৌঁছতে পারে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ২০০ ডলার পর্যন্ত।’

ব্রোকার প্রতিষ্ঠান ওএএনডিএর বিশ্লেষক কেলভিন ওয়ং বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য উত্তেজনা কমার কারণে নিরাপদ বিনিয়োগে চাপ কমেছে। পাশাপাশি শেয়ারবাজারের অন্যান্য সম্পদে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।’

গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের সঙ্গে শুল্ক কমানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছেন। বিনিময়ে বেইজিং ফেন্টানিল চোরাচালান বন্ধে কঠোর পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি এবং সয়াবিন ক্রয় ও দুষ্প্রাপ্য খনিজ রফতানিতে ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে।

এর আগে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি নাগাদ স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৫০০ ডলারে পৌঁছার পূর্বাভাস দিয়েছে মরগান স্ট্যানলি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিনিয়োগ ব্যাংকটি জানায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ধারাবাহিক ক্রয় ও স্বর্ণভিত্তিক এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ডে (ইটিএফ) ঊর্ধ্বমুখী বিনিয়োগপ্রবাহ স্বর্ণের মূল্যবৃদ্ধির ধারাকে ত্বরান্বিত করবে।

ব্যাংকটি আরো জানায়, সাম্প্রতিক সময়ের মূল্যস্ফীতিতে স্বর্ণের বাজারে অতিরিক্ত ক্রয়চাপ তৈরি হয়েছিল। তবে এখন দাম কিছুটা কমে আসায় তা তুলনামূলক স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরেছে। ব্যাংকটির বিশ্লেষকদের মতে, সুদহার কমার সঙ্গে সঙ্গে স্বর্ণভিত্তিক ইটিএফে বিনিয়োগ বাড়বে। এছাড়া আগের চেয়ে ধীরগতিতে হলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ক্রয় অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে অলংকার খাতে চাহিদাও স্থিতিশীল থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যান্য ধাতুর মধ্যে গতকাল স্পট মার্কেটে রুপার দাম দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি আউন্সের মূল্য পৌঁছেছে ৪৮ ডলার ৯০ সেন্টে। এ সময় প্লাটিনামের দাম ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্সের মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬০১ ডলার ৯০ সেন্টে। এছাড়া গতকাল প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৪৫২ ডলার ৫৮ সেন্টে।

আরও